ঢাকা | বঙ্গাব্দ

প্রায় হাজার খানেক ভুয়া বোমা হামলার হুমকিতে ভারতীয় এয়ারলাইন্স

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : ২৯ November ২০২৪ ইং
ভারতের বিভিন্ন এয়ারলাইন্স ও বিমানবন্দরগুলো চলতি বছর ১৪ নভেম্বর পর্যন্ত ৯৯৯টি ভুয়া বোমা হামলার হুমকি পেয়েছে। ছবির ক্যাপশন: ভারতের বিভিন্ন এয়ারলাইন্স ও বিমানবন্দরগুলো চলতি বছর ১৪ নভেম্বর পর্যন্ত ৯৯৯টি ভুয়া বোমা হামলার হুমকি পেয়েছে।
ভারতের বিভিন্ন এয়ারলাইন্স ও বিমানবন্দরগুলো চলতি বছর ১৪ নভেম্বর পর্যন্ত ৯৯৯টি ভুয়া বোমা হামলার হুমকি পেয়েছে।

ভারতের উপ বেসামরিক বিমান পরিবহন মন্ত্রী মুরলীধর মহল পার্লামেন্টকে জানিয়েছেন, ২০২৩ সালে পাওয়া হুমকির চেয়ে এবছর প্রায় ১০ গুণ বেশি হুমকি এসেছে। কেবল অক্টোবরের শেষ দুই সপ্তাহেই পাঁচ শতাধিক হুমকি এসেছে।

হুট করে ভুয়া হুমকি এমন নাটকীয় ভাবে বেড়ে যাওয়ায় ফ্লাইটের সময়সূচিতে বিপর্যয় ঘটেছে। উড়োজাহাজ চলাচলে ঘটেছে ব্যাপক বিঘ্ন।


মহল বলেন, “সম্প্রতি পাওয়া হুমকিগুলো সবই ভুয়া, ভারতের বিমানবন্দর বা উড়োজাহাজে পাওয়া কোনও হুমকিরই সত্যতা পাওয়া যায়নি।”

মন্ত্রী জানান, পুলিশ এখন পর্যন্ত ২৫৬টি অভিযোগ নথিভুক্ত করেছে এবং হুমকির ঘটনায় জড়িত সন্দেহে ১২ জনকে গ্রেপ্তার করেছে।

২০১৪ থেকে ২০১৭ সালের মধ্যে কর্তৃপক্ষ বিমানবন্দরে মাত্র ১২০টি বোমা হামলার হুমকির সতর্কতা রেকর্ড করেছিল। এসব হুমকির প্রায় অর্ধেকই ভারতের বৃহত্তম বিমানবন্দর দিল্লি ও মুম্বাইকেনিশানা করে করা হয়েছিল।


কিন্তু এবছর এমন হুমকির ঘটনা নজিরবিহীনভাবে বেড়েছে। অক্টোবরে ভুয়া হুমকির কারণে বেশ কয়েকটি ফ্লাইটে বিলম্ব হয়েছে এবং আরও বেশ কয়েকটি ফ্লাইট অন্যপথে ঘুরিয়ে দেওয়া হয়েছিল।

অক্টোবরে বোমা হামলার হুমকির পর সিঙ্গাপুরের বিমানবাহিনী এয়ার ইন্ডিয়া এক্সপ্রেসের একটি বিমানকে নিরাপত্তা দিতে দুটি যুদ্ধবিমান পাঠায়।

একই মাসে বোমাতঙ্কের কারণে ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লি থেকে যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগোগামী এয়ার ইন্ডিয়ার আরেকটি উড়োজাহাজ কানাডার একটি প্রত্যন্ত বিমানবন্দরে অবতরণ করতে বাধ্য হয়।


পরে বিমানের যাত্রীদের কানাডীয় কর্মকর্তাদের মোতায়েন করা বিমান বাহিনীর একটি বিমানে করে শিকাগোতে নিয়ে যাওয়া হয়।

ভারতের বেসামরিক বিমান চলাচল মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ফ্লাইট চলাচল নিরাপদ ও সুরক্ষিত রাখতে তারা 'সম্ভাব্য সব ধরনের চেষ্টা' করছে।

ভারতের বিমানবন্দরগুলোতে বোমা হামলা হুমকি মূল্যায়ন কমিটি (বোম্ব থ্রেট অ্যাসেসমেন্ট কমিটি) রয়েছে। এ কমিটি হুমকি কতটা গুরুতর তা খতিয়ে দেখে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়।

যে ফ্লাইটে বোমা হামলার হুমকি থাকে সেই ফ্লাইটের যাত্রীদের বিমান থেকে নামিয়ে একে একে সবার কেবিন লাগেজ, চেক-ইন লাগেজ সহ, এবং তাদের সবাইকে আবার তল্লাশি করা হয়। তাছাড়া, প্রকৌশলী ও নিরাপত্তকর্মীদের টিম উড়োজাহাজে সন্দেহজনক কিছু আছে কিনা তাও তল্লাশি করে দেখে।

এসব নিরাপত্তামূলক প্রক্রিয়ার কারণে ফ্লাইট বিলম্বিত হয় এবং এয়ারলাইন্সকেও হাজার হাজার ডলার ক্ষতির সম্মুখীন হতে হয়

দৈনিক সমীকরণ / ঢাকা / বাংলাদেশ